হাতিয়া উপজেলার ইউএনও কর্মকর্তার অশ্লীল ভিডিওর আদ্যোপান্ত। The beginning and end of the obscene video of the UNO officer of Hatia Upazila.
যেখানে দেখা যায় নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন একাধিক নারীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এবং সেগুলো ভিডিও ধারণ করে তিনি সংরক্ষণ করতেন।
এগুলো ভিডিও যখন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তখন সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, এই আপত্তিকর ভিডিও গুলো সম্পর্কে।
তখন তিনি সাংবাদিকদের কে বলেন এগুলো কোন ভিডিও সত্য নয় বরং তার সম্মানহানি করার জন্য এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
তবে সেসব ভিডিও গুলোদ্যা ডিসেন্ট চেক করে জানা যায় আলাউদ্দিনের দাবি সত্য নয় এসবগুলো ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা অরজিনাল ভিডিও। যেখানে দেখা যায় প্রায় দশটি ভিডিওতে সাত জন নারী সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় জনাব আলাউদ্দিন দৈহিক মেলামেশা করেছেন।
দ্যা ডিসেন্ট এই ভিডিও গুলোর সত্যতা যাচাই এবং এর উৎপত্তি কোথা থেকে এর উৎস জানার জন্য অনুসন্ধানের নামলে তারা জানতে পারেন দ্যা ডিসেন্ট এর সংগ্রহে মোট ১০ টি ভিডিওর সাত জন নারীর নাম সহ সেভ করা ছিল। এই সাত জন নারীর চেহারা অনুসন্ধান এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়। তারা সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা সাতজন নারী। তবে তাদের কারো পরিচয় এখন পর্যন্ত সনাক্ত করা যায় নি।
মূল ভিডিওগুলো সংগ্রহের পর আরোও গভীর পর্যালোচনা করে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর কনফার্ম করা হয় যে একটি ভিডিও এআই দ্বারা তৈরি নয়। সবগুলো ভিডিও অরিজিনাল এবং মূল কপি।
তবে তাদের অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে এই ভিডিওগুলো প্রকাশের নেপথ্যে হচ্ছেন শার্লা উপজেলার ভূমি অফিসের নিরাপত্তা কর্মী রাজু রায়।
ভূমি অফিসের কর্মরত একাধিক ব্যক্তি তাদের নাম পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক। একাধিক ব্যক্তি বলেছেন আলাউদ্দিন যখন এসিল্যান্ড ছিলেন তখন তিনি উপজেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে থাকতেন তার পরিবার ছাড়া।
এ সময় নিরাপত্তাকর্মী রাজু রায়ের বাসা থেকে খাবার আসতো আলাউদ্দিনের। এই সুবাদে নিরাপত্তাকর্মী রাজু রায়ের সাথে আলাউদ্দিনের ঘনিষ্ঠতা হয়।
আর এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগে নিরাপত্তা কর্মী রাজুরায় তার প্রায় কাছাকাছি অবস্থান করতো।
কোন একদিন জনাব আলাউদ্দিন ফোনে কোন এক নারীর সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং আলাউদ্দিন সেই নারীকে বলছিলেন যে তোমার সব ভিডিও আমার পেনড্রাইভে রাখা আছে
পাশে আড়াল থেকে নিরাপত্তাকর্মী রাজু রায় তা শুনতে পারে এবং সেই পেনড্রাইভ নিজের হস্তগত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
যেহেতু আলাউদ্দিন নিরাপত্তা কর্মী রাজুরাইকে বিশ্বাস করতেন এই সুযোগে রাজুরায় সেই পেনড্রাইভটি নিজের হস্তগত করে নেন। এবং পেনড্রাইভ থেকে সাত থেকে আটটি ভিডিও রাজু রাই তার মোবাইলে স্থানান্তর করে নেয়। সে সময় জনাব আলাউদ্দিন পেনড্রাইভ খুঁজে না পেলে অফিসে রাগান্বিত হয়ে যান। সুযোগ বুঝে নিরাপত্তা কর্মী রাজুরায় একটা ড্রয়ের ভেতরে পেনড্রাইভটি রেখে দেয় এবং পেনড্রাইভ খুঁজে পাওয়া গেছে বলে জানায়।
তার কিছুদিন পর থেকে রাজু রায় জনাব আলাউদ্দিনকে ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। শার্লা উপজেলার ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম জানাতে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানিয়েছেন,
জনাব আলাউদ্দিন নিরাপত্তা কর্মী রাজু রায়কে বিশাল অংকের টাকা ও কিছু সুযোগ সুবিধা দিয়ে বলেন ভিডিওগুলো যেন ডিলিট করে দেয়।
এদিকে নিরাপত্তাকর্মী রাজুরাই ভিডিওগুলো ডিলিট করার আগেই তার পরিচিত একজন ঘনিষ্ঠ সাংবাদিককে ভিডিওগুলো ট্রান্সফার করে দিয়ে তারপরে তার নিজের ফোন থেকে ভিডিও গুলো ডিলিট করে।
এই সাংবাদিক ও ব্ল্যাকমেইল করে আলাউদ্দিনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়েছেন বলে জানা যায়।
এমনকি তার পরিচিত কয়েকজন সাংবাদিককেও এই ভিডিওগুলো দেখিয়েছেন।
এই ভিডিও গুলো দেখার মাঝে একজন সাংবাদিক দ্যা ডিসেন্টকে এসব তথ্য ও অনুসন্ধানে সহায়তা করেন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের শার্লা উপজেলা ভূমি অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী রাজুর সাথে যোগাযোগ করা হলে রাজু বলেন এই ভিডিওগুলো প্রায় দুই বছর আগের।
ভিডিওর ভেতরে পাওয়া মেয়েদের তথ্য জানতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মী রাজুরায় বলে আমি এসব মেয়ের একজনকেও চিনি না। আর ওইসব ভিডিও আমি তখন সঙ্গে সঙ্গেই ডিলিট করে দিয়েছি।
নিরাপত্তা কর্মী রাজু রায় যে সাংবাদিককে এসব ভিডিও দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, সেই সাংবাদিককে হোয়াটসঅ্যাপ এবং মুঠোফোনের নাম্বারে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তাই দ্যা ডিসেন্ট এর প্রতিবেদনে সাংবাদিকের নাম উজ্জ্ব রাখা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শার্লা ভূমি অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন আমাদের কাছে রাজুকেই মনে হতো এসিল্যান্ড। আমরা যে কাজ নিয়ে গেলে স্যার করে দিতেন না। নিরাপত্তা কর্মী রাজু সে কাজ নিমিষেই করে নিয়ে আসতেন। রাজু যা বলতেন স্যার তাই করতেন। পরে আমরা বুঝতে পারি আসলে এই ভিডিওগুলোই হচ্ছে আসল কারণ।
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়াতে এসব ভিডিও প্রকাশ হলে আলাউদ্দিনের মুঠোফোনে ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত কারণ হচ্ছে এই ভিডিওগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর হাতিয়া উপজেলার ইউ এন ও পদ থেকে তাকে ওএসডি করে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তানবির সুমন এর স্বাক্ষরিত এক প্রোজ্ঞ্রাপনে এ বদলি ও পদায়নে আদেশ জারি করা হয়।

0 Comments