প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেনের অভ্যন্তরে রয়েছে হরিণের পার্ক। বোটানিক্যাল গার্ডেনের অভ্যন্তরে যখন আপনি ঘুরতে ঘুরতে প্রাকৃতিক সুন্দর্যে মুগ্ধ থাকবেন, অনেক কিছু দেখার পাশাপাশি আপনি হরিণ পার্কটিও ঘুরে আসতে পারেন।
হরিণ পার্কে প্রবেশের দুইটি পথ। ভেতরে একটি হচ্ছে বোটানিক্যাল গার্ডেনস এর অভ্যন্তরীণ গেট এবং অপরটি হচ্ছে তুন আব্দুর রাজ্জাক মেমোরিয়াল এর দিকে এগিয়ে গেলেই হরিণ পার্কটি মেমোরিয়াল এবং অর্কিড গার্ডেনের মাঝখানে অবস্থিত। আব্দুর রাজ্জাক মেমোরিয়ালের পিছনের সিঁড়ি দিয়ে হেটেও হরিণ পার্কে যাওয়া যায়।
এখানে বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ আছে। হরিণ দেখার পাশাপাশি আপনি এখানে একটি রোমাঞ্চকর পথভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যটকদের মনে আকর্ষণ করতেই হরিণ পার্কের প্রবেশদ্বার সুন্দর কাঠামো ও প্রাকৃতিক গাছপালা দিয়ে সাজানো হয়েছে। হরিণ পার্ক এর ভেতরে প্রবেশের পরপরই আপনাকে মনে হবে আপনি একটি ভূস্বর্গে প্রবেশ করছেন। এর উঁচু-নিচু পথ, পাথরে বাধা সিঁড়ি এবং গাছ গুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন দর্শনার্থীদের মনোমুগ্ধ করা সম্ভব হয়।
পুরো পার্কটি আপনি ঘুরতে ঘুরতে প্রাকৃতিক হওয়া ও ছায়ার আরামদায়ক পরশ উপলব্ধি করতে পারবেন। কেননা দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখেই পথগুলো প্রাকৃতিক উদ্ভিদের অভ্যন্তরে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। আপনি ইচ্ছে করলেও বোটানিক্যাল গার্ডেন এর ভিতরে ঘোরাফেরা করার পর যখন হরিণ পার্কে ঢুকবেন সেখানে অনায়াসে সুন্দর একটি মনোরম পরিবেশে হালকা বিশ্রাম নিতে পারবে। এজন্য বিভিন্ন পয়েন্টে বসার জায়গা করা আছে।
প্রকৃতির মাঝ দিয়ে যখন আপনি হেঁটে হেঁটে হরিণ পার্কের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন, ঠিক তখনই আপনার চোখে পড়বে কংক্রিটে তৈরি একটি ব্রিজ, মাঝামাঝিতে আছে একটি ছাউনি। যেখান থেকে দর্শনার্থীরা খুব সহজেই হরিণের বিচরণ লক্ষ্য করতে পারেন।
বোটানিক্যাল হরিণ পার্কে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে মাউসডেয়ার অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে ছোট খুড়ওয়ালা প্রাণী এবং এটি ইন্দোনেশিয়ান ও মালয়েশিয়ান লৌকিক কথাই খুব সুপরিচিত একটি প্রাণী। এছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণের মাঝেও রয়েছে হল্যান্ডের ফ্যালো ডেয়ার, অ্যাক্সিস ডেয়ার, এবং সাম্বার ডেয়ার।
হরিণ পার্কের সম্পর্কে এবং বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ সম্পর্কে আপনার কিছু জানার ইচ্ছে থাকলে, আপনি ইচ্ছে করলে সেখানেই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরোও তথ্য পেতে পারেন।
সাধারণত সকল ধরনের দর্শনার্থী প্রথমত বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিদর্শন করেন। এরপর আসেন হরিণ পার্কে। সেক্ষেত্রে বন্য মুরগি চোখে পরা অস্বাভাবিক না। একটু খেয়াল করে পথ চললেই বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিভিন্ন গাছের আড়ালে বা ঝোপের আড়ালে অথবা হরিণ পার্কের অভ্যন্তরে চোখে পড়ে বন্য মুরগি। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে যখন আপনি একটি বন্য মুরগি দেখতে পাবেন, সেখানে অবশ্যই আর একটি বন্যমোরগ চোখে পড়বে। এরা সাধারণত জোড়াবেঁধে চলাফেরা করে।
যারা বন্যা মুরগি এখন পর্যন্ত বোটানিক্যাল গার্ডেনস এর ভিতরে ঘুরেও দেখতে পাননি, তাদের জন্য ছোট্ট টিপস হচ্ছে, হরিণ পার্কে প্রবেশদ্বারে ঢোকার পর ঠিক বাম পাশের সরু রাস্তা দিয়ে উপরে গেলেই বিভিন্ন ধরনের বন্য মোরগ মুরগির দেখা পাবেন। যেখানে কর্তৃপক্ষ কয়েকটা খাঁচাতে বন্দী করে রেখেছে দর্শনার্থীদের দেখার সুবিধার্থে।
এই হরিন পার্কেটি দেখতে আসলে আপনার যেসব সুবিধে পেতে পারেনঃ
প্রথমত হচ্ছে হরিণ পার্কে প্রবেশের শুরুতেই আপনাকে যেতে হবে লেক গার্ডেন্স বা বোটানিক্যাল গার্ডেন্স এর অভ্যন্তর দিয়ে। এর জন্য আপনি ইচ্ছে করলেই বোটানিক্যাল গার্ডেনটি ঘুরে দেখতে পারবেন।
যারা প্রকৃতিপ্রেমী তারা ইচ্ছে করলে বোটানিক্যাল গার্ডেনস এর ভিতর হিবিস্কাস গার্ডেন অর্কিড গার্ডেন ঘুরে দেখার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে হাতে সময় থাকলে।
এছাড়াও এর পাশেই আছে বাটারফ্লাই পার্ক
এবং এর অনুতিদূরেই আছে বার্ডপার্ক।
এছাড়াও
আপনি ইচ্ছে করলেই মালয়েশিয়ার ইসলামিক সংস্কৃতি সম্পর্কে আরো জানতে আপনি ডিয়ার পার্কের ঠিক পাশেই অবস্থিত ইসলামিক আর্ট মিউজিয়াম এবং কুয়ালালামপুর জাতীয় মসজিদ যেতে পারেন।
যেহেতু ডেয়ার পার্কটি শহরের অভ্যান্তরে অবস্থিত তাই ইচ্ছা করলেই আপনি পাশে যে কোন হোটেলে থাকতে পারবেন।
দর্শনার্থীদের জন্য কিছু টিপস বা কিছু সতর্কতাঃ
দর্শনার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হচ্ছে এখন পর্যন্ত এই পার্কে কোন ফি প্রদান করতে হয় না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আপনি এই পার্কটি ভ্রমণ করতে পারবেন।
যদি আপনি হরিণ পার্কে ঘুরতে আসেন সেক্ষেত্রে আপনি ইচ্ছে করলেই কোন সাইকেল নিয়ে আসতে পারবেন না, কেননা এখানকার পথ অনেক উঁচু-নিচু। শুধুমাত্র পায়ে হেঁটে চলার পথ।
যারা খুব ঘন গাছপালায় বা বন জাতীয় উদ্ভিদের ভিতরে হেঁটে চলতে অভ্যস্ত নয়, তারা অবশ্যই সাথে কাউকে সঙ্গে নিয়ে আসবে।
যদি আপনি মহিলা দর্শনার্থী হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আমি পরামর্শ দিব অবশ্যই অন্য কোন দর্শনার্থীদের সাথে দলগতভাবে হরিণ পার্কে যাবেন।
হরিণ পার্কে যেতে গেলে যেহেতু ঘন গাছপালার ভেতরে সরু পথে যেতে হয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই পথে খেয়াল রাখবেন, যেহেতু ঘনবন এর মত ছোট বড় উদ্ভিদে সাজানো কোন সাপ পোকামাকড় থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। যদিও কর্তৃপক্ষ এই জিনিসগুলো খুব টেককেয়ার করে রাখেন।
যদি কোন দর্শনার্থী হরিণ পার্ক শুরুতেই দেখার পর বোটানিক্যাল গার্ডেন্স এর ভিতরে ঘুরতে চান, সেক্ষেত্রে হরিণ পার্ক এর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আরেকটি পথ সিঁড়ি বেয়ে উপর দিকে উঠেছে, এটি এড়িয়ে চলুন। কেননা এ পথে গেলে আপনি বোটানিক্যাল পার্ক থেকে বেরিয়ে চলে যাবেন। বোটানিক্যাল গার্ডেন্স এর ভিতরে থাকতে হলে আপনাকে রিটেন পথ ধরে ফেরত আসতে হবে।
বোটানিক্যাল গার্ডেন অথবা হরিণ পার্কে যেকোনো জায়গাতেই বন্য মোরগ মুরগি চোখে পড়লে তা শিকার করা দন্দনীয় অপরাধ।


0 Comments