প্রাথমিক ধারণাঃ
গার্ডেনের ধরনঃ এটি একটি নগর উদ্যান।
প্রতিষ্ঠাঃ প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৮ সালে।
লোকেশনঃ এটি মূলত লেম্বাহ পান্তাই কুয়ালালমপুর লোয়েশিয়ায় অবস্থিত।
আয়তনঃ প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেন ৯১.৬ হেক্টর অর্থাৎ ২২৬ একর জমির ওপর অবস্থিত।
রক্ষণাবেক্ষণঃ প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেন মূলত পরিচালনা করে কুয়ালালামপুর সিটি হল থেকে।
পরিদর্শনের সময়ঃ বোটানিক্যাল গার্ডেন মূলত সর্বক্ষণ ওপেন থাকে। কিছু কিছু রেস্ট্রিক্টেড পয়েন্টে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত প্রবেশ করার অনুমতি আছে। এছাড়াও বছরের সর্বক্ষণ এই বোটানিক্যাল গার্ডেন ওপেন থাকে।
প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেনের অভ্যন্তরে দর্শনীয় স্থানঃ
১। হরিণ পার্ক।
২। জবা বাগান।
৩। অর্কিট বাগান।
৪। বার্ড পার্ক।
৫। বাটারফ্লাই পার্ক।
প্রথমের দিকে প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিচিত ছিল গার্ডেন্স এবং পাবলিক গার্ডেন্স নামে। মালয়েশিয়ার একমাত্র সর্ববৃহৎ এবং কোয়ালা-লামপুরের একদম প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিনোদনমূলক উদ্যান। এই উদ্যানটি শহরের কোলাহল থেকে মুক্তির স্থান হিসেবে কাজ করত জনসাধারণের জন্য উপনিবেশিক সময় থেকেই। প্রথমদিকে ওই ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর জন্যই এই উদ্যান পার্ক টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশাল এলাকা জুড়ে সুসজ্জিত ও যত্ন সহকারে পরিচর্যা করা বাগান। বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থান এবং প্রজাতির গাছের সংগ্রহশালাও বলা চলে এই বোটানিক্যাল গার্ডেনকে।
১। হরিণ পার্কঃ
বোটানিক্যাল হরিণ পার্কে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে মাউসডেয়ার অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে ছোট খুড়ওয়ালা প্রাণী এবং এটি ইন্দোনেশিয়ান ও মালয়েশিয়ান লৌকিক কথাই খুব সুপরিচিত একটি প্রাণী। এছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণের মাঝেও রয়েছে হল্যান্ডের ফ্যালো ডেয়ার, অ্যাক্সিস ডেয়ার, এবং সাম্বার ডেয়ার।
২। বার্ড পার্কঃ
এটি একটি বিখ্যাত ইকো ট্যুরিজম পার্ক। এটি "বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফ্রি-ফ্লাইট ওয়াক-ইন এভিয়ারি" (World's Largest Free-flight Walk-in Aviary) বা উন্মুক্ত পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। এই বার্ডপার্কটি ২০.৯ একর জমির বিস্তৃত।
৩। বাটারফ্লাই পার্কঃ
সবচেয়ে বড় অবাক করা তথ্য হচ্ছে এটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রজাপতি উদ্যান যা ৮০০০০ বর্গফুটেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা প্রকৃতির মাঝে প্রায় ৬০০০ এর বেশি সুন্দর সুন্দর প্রজাপতি রয়েছে।
এছাড়াও এখানে আপনারা দেখতে পারবেন ____
৪। জবা বাগান।
৫। অর্কিট বাগান।
৬। হিবিস্কাস গার্ডেন।
৭। বন মুরগি পয়েন্ট।
দর্শনার্থীর জন্য সতর্কবার্তাঃ (এখান থেকে আপনার জন্য উপকারী তথ্য নিতে পারেন)
১। যেহেতু এটি একটি পাবলিক প্লেস তাই যেখানে সেখানে আপনি ধূমপান করতে পারবেন না।
২। প্যারদানা বোটানিকাল গার্ডেনের অভ্যন্তরে হৃদে আপনি গোসল করতে বা সাঁতার কাটতে পারবেন না।
৩। এখানে আপনি আপনার পোষা প্রাণী যেমন কুকুর সঙ্গে নিতে পারবেন না।
৪। আপনি ইচ্ছে করলে যত্রতত্র ময়লা ফেলতে পারবেন না। যেখানে নির্দিষ্ট ময়লার বক্স রাখা আছে সেখানেই আপনাকে ময়লা ফেলতে হবে।
৫। প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেনের অভ্যন্তরে হৃদ বা নদীতে আপনি মাছ শিকার করতে পারবেন না।
৬। এই গার্ডেন এর ভিতরে আপনি মোটরসাইকেল বা ই-বাইক চালাতে পারবেন না। আপনি চাইলে বাই সাইকেল চালাতে পারবেন।
৭। বোটানিক্যাল গার্ডেন এর অভ্যন্তরে যে কোন রাস্তায় আপনি স্কেটবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না।
৮। প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেনের অভ্যন্তরে আপনি ইচ্ছে করলেই ফ্যামিলি বা বন্ধু-বান্ধব বা কলিগদের নিয়ে মঞ্চ বানিয়ে বা বাদ্য যন্ত্র নিয়ে অনুষ্ঠান করতে পারবেন না।
৯। প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেনের অভ্যন্তরে আপনি কোন স্প্রে বহন করতে পারবেন না।
১০। এখানে ভ্রমণ কালে আপনি কোন গাছের পাতা বা ফুল ছিড়তে পারবেন না।
১১। আপনি যদি আপনার জীবন সঙ্গী বা আপনার লাইফ পার্টনারকে নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন, তবে মনে রাখবেন যেহেতু এটি পাবলিক প্লেস তাই এখানে কোন রকম অন্তরঙ্গ হাওয়া নিষেধ।
১২। এর ভেতরে কোনরকম নিষাদ্রব্য বহন করা নিষেধ।
১৩। বোটানিক্যাল গার্ডেনের অভ্যন্তরে যেকোনো কারণে মাটি খনন বা চুলা তৈরি করা বা ছামিয়ানা টাঙ্গানোর জন্য মাটি খনন করা নিষেধ।
১৪। এখানে উচ্চস্বরে শব্দ করা বা অন্যের অসুবিধা হয় এরকম ধরনের কাজ করা নিষেধ।
১৫। এর ভেতরে আপনার টপ ইউজ করে রান্না করার অনুমতি থাকলেও ময়লা জালানো বা পাতা পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ।
১৬। প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেনের অভ্যন্তরে কোন ধরনের ফেরিওয়ালা বা খাবার জিনিস বিক্রিয় অস্থায়ী টোল বা গাড়ি প্রবেশ নিষেধ।
বর্তমানের প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেন এর ঐতিহাসিক পটভূমিঃ প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেন মূলত ব্রিটিশ রাষ্ট্রীয় কোষাধ্যক্ষ আলফ্রেড ভেনিং এর মাথায় প্রথম পরিকল্পনাটি আসে। এর পরপরেই ভেনিং সুঙ্গাই বা হ্রদ ব্রাশ ব্রাশ উপত্যকায় একটি উদ্ভিদ উদ্যান নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। তখন এই প্রকল্পে সম্মত হন ব্রিটিশ রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্ক সোয়েটেনহ্যাম এবং উদ্যানটির জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে একটি ছোট অনুদান অনুমোদন করেন। প্রথমদিকে পার্কর্টির আয়তন ১৭৩ একর অর্থাৎ ৭ লক্ষ বর্গ মিটার এর জন্য ভেনিং পরিকল্পনা তৈরি করেন। সেই পরিকল্পনার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত ছিল একটি পরীক্ষামূলক অর্থনৈতিক উদ্যান ও একটি হৃদ।
সর্ব প্রথমেই এই এলাকার ঝোপঝাড় ও লালাং গাছ পরিষ্কার করে বাগানের ভেতরের শোভাবর্ধক ফুল গাছ ও গুল্ম গাছ রোপন করেন ভেনিং। সেসময় এ প্রকল্পটি জনগণের ব্যাপক সমর্থন লাভ করে। এবং ক্যানটনিস সম্প্রদায়ের একজন নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিত্ব টোকে বা নেতা চৌ আহ ইয়োক ১৮৮৮ সালে প্রাথমিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ১০০ টি চম্পাকা এবং কমলা গাছ দান করেছিলেন।
এছাড়াও সুঙ্গেই ব্রাশ ব্রাশ বা নদীতে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য একটি বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। সে সময়ে এই হৃদের নামকরণ করা হয় সোয়েটেন হ্যামের স্ত্রীর নামে সিডনি লেক। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ শেষ হতে প্রায় সময় লাগে ১০ বছর। কিন্তু একটি মজার বিষয় হচ্ছে কাজ শুরু হওয়ার এক বছর পরেই ১৮৮৯ সালে ১৩ই মে ট্রেইটস সেটেলমেন্টেসের গভর্নর স্যার সেসিল ক্লেমেনটি স্মিথ আনুষ্ঠানিকভাবে বাগানটি উদ্বোধন করেন।
প্যারদানা পার্কের ধারে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি ফ্র্যাঙ্ক সোয়েটেন হ্যামের এর সরকারি বাসভবন।
১৯৯০ সালে হ্রদের ধারে একটি সামাজিক ক্লাব তৈরি করেন ভেনিং। যার নাম ছিল লেক ক্লাব যা এখন বর্তমানে রয়েল লেক ক্লাব নামে পরিচিত। এটি সচরাচর সিলাঙ্গর বা জেলা ক্লাবের মত নয়। এই ক্লাবটি ছিল শুধুমাত্র ইউরোপীয়দের জন্য এবং এটি অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কোয়ালা লামপুরের ইউরোপীয়রা সামাজিক অঙ্গনের আধিপত্য বিস্তার করেছিল।
প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেনের ঠিক উত্তর প্রান্তে মালয়েশিয়ার সংসদ ভবন নির্মিত হয় ১৯৬৩ সালে।
পার্কটির নামকরণঃ
পার্কর্টির নাম লেক গার্ডেন্স হলেও এর পূর্বে জনসাধারণের কাছে পাবলিক গার্ডেন্স নামেই পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে স্বাধীন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তুন আব্দুর রাজ্জাক ১৯৭৫ সালে এর নাম পরিবর্তন করে তামান তাসিক বা প্যারদান লেক গার্ডেন্স নামকরণ করেন।
দীর্ঘ সময় পর দাতো শ্রী নাজিব রাজ্জাক তৎকালীন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ২৮শে জুন ২০১১ সালে পার্কর্টির নাম বোটানিক্যাল গার্ডেনে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেন এবং এর পরপরই এই পার্কটির নামকরণ করা হয় প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেন্স।
বোটানিক্যাল গার্ডেন এর অবস্থানঃ
ভেনিংরোড বা বর্তমানে জালান প্যারদানা নামে পরিচিত রাস্তার পাশেই এই বোটানিক্যাল গার্ডেনটি অবস্থিত। এছাড়াও আরো একটু সহজ ভাবে যদি বলি এটি হচ্ছে মালয়েশিয়ার জাতীয় জাদুঘরের কাছে অবস্থিত।
যোগাযোগ ব্যবস্থারঃ
প্যারদানা বোটানিক্যাল গার্ডেনের খুব নিকটে হাঁটার দূরত্বের মধ্যেই নিকটতম গণপরিবহন কেন্দ্র হল মিউজিয়াম নেগারা এমআরটি স্টেশন। এছাড়াও আপনি পেতে পারেন কেএল এর বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে ফ্রি চলাচল করা পাবলিক বাস। তবে আপনি যদি বিদেশি হন অবশ্যই আপনাকে সামান্য পরিমাণ পে করতে হবে। আপনি ইচ্ছে করলে মালয়েশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় বুকিং এপস যেমন GRAB ব্যবহার করেও এখানে আসতে পারেন। নিজস্ব গাড়ি নিয়েও যেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন অভ্যন্তরীণভাবে গাড়ির পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে পার্কের সম্মুখ সারীতে কিছু পার্কিং লট আছে যেখানে আপনাকে পে করে পার্কিং করতে হবে।

0 Comments