Top For You

মালয়েশিয়ার বিখ্যাত ভাসমান মসজিদ Melaka Straits Mosque.

মালয়েশিয়া মালাক্কা স্ট্রেইটস এর বিখ্যাত ভাসমান সেলাত মসজিদ।

প্রাথমিক কিছু কথাঃ
মালয়েশিয়ার মেলাকা শহরের যতগুলো দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য রয়েছে এর ভেতরে অন্যতম এবং প্রধান আকর্ষণ মেলাকা স্ট্রেইটস মসজিদ (Melaka Straits Mosque). মালাক্কা শহরে এই মসজিদটি মসজিদ সেলাত মেলাকা (Masjid Selat Melaka) নামেই সেখানকার স্থানীয় মানুষদের কাছে পরিচিত। এই মসজিদটি মালাকার উপকূলে কৃত্রিম দ্বীপের উপর নির্মিত। সম্পূর্ণ মসজিদটি দ্বীপের কিনারা থেকে একটু ভেতরে পানির উপরে নির্মাণ করা হয়েছে। 
দ্বীপের উপকূলে যখন জোয়ার আসে, পানি মসজিদের কেনার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তখন দেখতে মনে হয় মসজিদটি সম্পূর্ণ পানির উপরে ভাসছে। তাই মানুষ এই মসজিদকে অনেক সময় ভাসমান মসজিদ বলেও চিহ্নিত করে।

আমি মূলত চেষ্টা করব, এই মালাক্কা স্ট্রেইটস মসজিদের ইতিহাস, নির্মাণশৈলী এবং ভ্রমণ গাইড সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য শেয়ার করতে। যা আপনাদের ভ্রমণ সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।

মালাকার উপকূলীয় এই দ্বীপ শত শত বছর আগে বিশ্বের অন্যতম এবং ব্যস্ততম বাণিজ্যিক বন্দর ছিল। যেখানে চীন ভারত পারস্য আরোবি সহ বিভিন্ন দেশের বড় বড় বণিক গণেরা এই বন্দরে আসতেন। মালাকার এই উপদ্বীপকে প্রাচীন বাতিঘর বা light house বলা হয়। 
মালাকার উপদ্বীপের এই আলোকে অনুসরণ করে বিভিন্ন অঞ্চলের বণিকরা এই বন্দরে আসতেন। এই কারণেই মূলত বর্তমানে মালাক্কা স্ট্রেইটস মসজিদ মালাকার ঐতিহাসিক ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণে আরবীয় এবং পারস্য ধাঁচের সঙ্গে মিল রেখে আরবী ও পারস্য বণিকদের ইতিহাসের আক্ষরিকেই সম্মান প্রদর্শক হিসেবে এই মসজিদটি তৈরি করা হয়।
যেখানে প্রায় ৩০ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন একটি মিনার তৈরি করা হয়েছে যে মিনারের লাইট সাগরের সাগরের গর্ভ থেকে নাবিকদের মালাক্কার উপকূলীয় অঞ্চলে আসার সময় বহুদূর থেকে চোখে পড়ে। 
 
ঐতিহাসিক যুগে আরবীয় ও পারস্য বণিকগণ যখন ব্যবসায়ীর কাজে এই উপকূলে আসতেন।  বণিকদের হাত ধরেই মালাক্কার এই অঞ্চলে প্রথম ইসলামের আগমন ঘটে। এইজন্য মালাকার এই উপকূলীয় অঞ্চলকে ইসলামের প্রবেশদ্বারও বলা হয়ে থাকে। আরোবিও ও পারস্য বণিকরা প্রথম মালাকার এই উপদ্বীপেই নোঙ্গর করেন। মালাক্কার এই উপদ্বীপ থেকেই বণিকদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়তে থাকে। তখন তাদের নিজেদের প্রয়োজনে সেখানে নামাজের জন্য ব্যবস্থা করেন। এরপর এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার লাভ করে। ওই অঞ্চলে ধীরে ধীরে স্থানীয় মুসলিমদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বাণিজ্যিক প্রসার ও উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক মুসলিমের আনাগোনা শুরু হয়। আরবীয় ও পারস্য অঞ্চলে থেকে আশা মুসলিম বণিকদের উৎসাহে মালাক্কার উপকূলে নামাজের স্থান নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে একটি সেই যুগের অত্যাধুনিক মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়।
তবে সে সময় বিভিন্ন জটিলতা থাকার কারণে মসজিদটির নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। 

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, বর্তমান যে স্ট্রাকচারটা রয়েছে, এটি মূলত সেই পুরনো নকশা থেকেই ধারণা নিয়েই আধুনিকায়নের মাধ্যমে, বর্তমান সময় পরিবেশ পরিস্থিতি জলবায়ু বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এই নকশাটি নতুন করে তৈরি করা হয়।

মেলাকা স্ট্রেইটস মসজিদ এর ইতিহাস ও  কিছু তথ্য ___
২০০৩ সালে প্রথম এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন মালয়েশিয়ার রাজা (Yang di-Pertuan Agong) তুয়াংকু সৈয়দ সিরাজ উদ্দিন সৈয়দপুত্রা জামাল উল্লাহ। 
এই মসজিদটি মূলত তৈরি করা হয় মালাক্কা প্রণালী অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক বন্দরে যা প্রাচীনকাল থেকেই যাতায়াতের সুবিধার্থে নাবিক ও বনিকরা আধ্যাত্মিক বাতিঘর হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। ঐতিহাসিক সেই স্মৃতি বা ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই এবং মালাকার ইসলামিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বর্তমানের এই মালাক্কা স্ট্রেইটস মসজিদ তৈরি করা হয়।
২০০৬ সালের ২৪ শে নভেম্বর মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তুন আব্দুল্লাহ আহমদ বাতাবি আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটি উদ্বোধন করেন।

মসজিদ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত তথ্যঃ
মসজিদটি নির্মিত হয় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গার উপরে। মসজিদের মূল কক্ষ বা নামাজের স্থান এবং মূল কক্ষের পাশের জায়গা সহ এখানে প্রায় একসাথে দুই হাজার জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
এই মসজিদের প্রধান মিনারটির উচ্চতা প্রায় ৪০ মিটার। 
যদিও এই মসজিদ কে ভাসমান মসজিদ বলা হয়। এটি মূলত মৌন সম্মতিক্রমে সবাই বলে থাকেন। এই মসজিদটি মূলত পানির ভিতরে কংক্রিটের তৈরি শক্তিশালী পিলারের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। উপকূলে যখন জোয়ার আসে, পানি মসজিদের কিনারা পর্যন্ত পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তখন দেখতে মনে হয় মসজিদটি যেন পানির উপরে ভাসছে। এই কারনেই অনেকেই এই মসজিদকে ভাসমান মসজিদ বলে থাকেন।
মসজিদের মাঝখানে মূল গম্বুজের একদম চুঁড়াতে মধ্যপ্রাচ্যের ক্লাসিক্যাল ইসলামিক কালচার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই নকশা তৈরি করা হয়। যার উপর সোনালী রঙের চমৎকার ফিনিশিং রয়েছে। মসজিদের পাশে প্রায় ৪০ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন একটি মিনার দেখা যায় এটি মূলত প্রাচীন কালের সেই লাইট হাউজ বাতিঘর কে আধুনিক হিসেবে সংস্করণ করা হয়। 
অর্থাৎ প্রাচীনকালে বণিক ও নাবিকরা যখন মালাক্কার উপদ্বীপে আসতেন  তখন পৌঁছার পূর্ব পর্যন্ত দ্বীপের বাতিঘর বা লাইট হাউসকে অনুসরণ করেই মালাক্কার বন্দরে আসতেন। প্রাচীন ঐতিহ্যকে অনুসরণ করেই মূলত এই মিনারটি তৈরি করা হয়েছে যা এখনো উপদ্বীপে বাতিঘর ও লাইট হাউস হিসেবে কাজ করছে।

মসজিদের স্থাপত্য শৈলীঃ ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল অব্দি সময় নিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন সেই সময়ের সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান ATSA Architects কোম্পানি। এটি ইবাদতের জন্য মসজিদ হিসেবে তৈরি করলেও,  এটি তৈরি করার সময় মালাক্কা রাজ্যের অতীত ইতিহাস ইসলামিক সংস্কৃতি ও মালাকার সংস্কৃতের সংমিশ্রণে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই মসজিদটি তৈরি করা হয়। এটি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শুধু নয়, মালয়েশিয়ার প্রকৌশল বিদ্যা ও পর্যটনের একটি অন্যান্য নিদর্শন। বিশেষ করে গোধূলি লগ্নে পড়ন্ত সূর্যের আলো যখন পানিকে স্পর্শ করে মসজিদের গম্বুজে পড়ে। তখন মসজিদে সৌন্দর্য আরো দ্বিগুণ পরিমাণে বেড়ে যায়।

এই মসজিদ তৈরি এতটা সহজ ছিল না। সমুদ্রের পানির উপরে এমন একটি কাঠামো তৈরি করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল ছিল। সাগরের ঢেউ এবং লোনা পানির দারা খয় রোধ করার জন্য বিশেষ ধরনের মেরিন গ্রেট কনক্রিট এবং পাইলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

এই মসজিদটি তৈরি করতে মূল কনসালটেন্ট ছিল মালয়েশিয়ার বিখ্যাত আর্কিটেকচারাল ফার্ম ATSA Architects.  একই সঙ্গে কাজ করেছেন মালয়েশিয়া ও বিদেশী প্রকৌশলী আর্কিটেক্ট আন্ডার ওয়াটার ড্রাইভার যারা পাইলিং তদারকিতে করত এবং শত শত নির্মাণ শ্রমিক দিনরাত কাজ করেছেন।

এছাড়াও অভ্যন্তরীণ বিশেষ ড্রইংগুলোর জন্য ক্যালিগ্রাফি ও গম্বুজের কারুকাজে অভিজ্ঞ ইসলামিক কারিগর নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। 

এই মসজিদের আরেকটি বিশেষত্ব গুণ হচ্ছে মসজিদের চারপাশ খোলা ও সমুদ্রের দিকে মুখ করা বিশাল খিলান খিরকি রয়েছে (আমাদের  ভাষায় যেটাকে আমরা বাসা বা বাড়িতে বাতাস বাহির প্রবেশের জন্য একদম উপরে ছোট্ট জানালা রাখি)। সাগরের জল রাশির কোল ঘেঁষে ধেয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস জানালাতে প্রবেশ করে। আর এই কারনেই মসজিদটি প্রাকৃতিকভাবেই ঠান্ডা থাকে। 
প্রাকৃতিক এই ঠান্ডা খাবার কারণে মসজিদের ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপরে অনেকাংশে চাপ কমে যায়।

সালাত মসজিদের অভ্যন্তরীণ বর্ণনা না দিলে মসজিদের অপূর্ণতা থেকে যায়। মসজিদের অভ্যন্তরীণ ও চারপাশের লাইটিং সিস্টেমটি এতই সুন্দর করা হয়েছে যে, রাতের বেলা সমুদ্রের বুকে যেন এক রঙ্গিন রত্ন ভাসছে।
মসজিদের অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধান গম্বুজের ঠিক নিচেই যে বিশাল এবং ক্রিস্টালের দৃষ্টিনন্দন ঝাড়বাতি ঝুলানো রয়েছে যা সরাসরি কুয়েত থেকে আমদানি করা হয়েছে।
মসজিদের পার্থনা হলের মেঝেতে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও তার ওপরে বিছানো হয়েছে মরক্কো স্টাইলের কার্পেট। 
মালাক্কার স্ট্রেইটস মসজিদের আরেকটি বিশেষ গুন হচ্ছে মসজিদের চারপাশ থেকে লক্ষ্য করলে প্রায় একই ভিউ লক্ষ্য করা যায়। শুধুমাত্র সামনে অংশে প্রবেশপথের কিছু পরিবর্তন ও লাইট হাউস যে মিনারটি রয়েছে এর কারণে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

মানুষের চিন্তাশীল ও সৃজনশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত এই বিশাল মহাযজ্ঞ পরিপূর্ণ শেষ করতে ব্যয় করা হয় আনুমানিক ১০ থেকে ১১ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত। যা তৎকালীন সময়ে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য। আর সেই সময় এই পুরো অর্থায়ন করেছিলেন মালাক্কা রাজ্যের সরকার এবং বিভিন্ন ইসলামিক অনুদান তহবিল। 

মালাক্কা স্ট্রেইটস মসজিদ (Selat Mosque/Melaka Straits Mosque) ভ্রমণ গাইডঃ
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর সেন্টার থেকে আপনাকে মালাক্কা আসতে হলে সর্বপ্রথম আসতে হবে সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড টিবিএস(TBS). সে ক্ষেত্রে আপনি ব্যবহার করতে পারেন rides booking apps.   কলালামপুর সেন্টার থেকে টিভিএস এ ভাড়া লাগতে পারে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ রিঙ্গিত এটি নির্ভর করবে আপনার পিক আওয়ার অফপিক আওয়ার এর উপরে। এমনকি আপনি কোন অ্যাপসে রাইট বুকিং দিচ্ছেন এর উপরেও নির্ভর করবে। কমবেশি সবগুলোই পাশাপাশি থাকে। অনলাইন বুকিং অ্যাপস মালয়েশিয়াতে সবচেয়ে জনপ্রিয় apps হচ্ছে grab.  এছাড়াও রয়েছে Bolt, maxim, Uber, indrive. 

আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি তুলনামূলক জনপ্রিয়  ও নিরাপদ রাইড বুকিং অ্যাপ্স হচ্ছে গ্র্যাব(grab). যেহেতু আপনারা এ দেশে ঘুরতে আসবেন। অপরিচিত একটি জায়গাতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হচ্ছে প্রধান কাজ।

সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড টিভিএস থেকে আপনি সরাসরি টিকেট কিনতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে যাত্রা শুরুর একটু আগেই সেখানে উপস্থিত হওয়া দরকার। 
আপনি ইচ্ছে করলে রেড বাস অ্যাপস বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে টিকিট ক্রয় করতে পারবেন।

সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে মালাক্কার উদ্দেশ্যে বাস সাধারণত আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘন্টা পর পর ছেড়ে যায়। আমার পরামর্শ থাকবে যেহেতু সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে মালাক্কার দূরত্ব প্রায় ১৩৫ কিমি, লং টাইমের এজন্য আপনাকে রাতে জার্নি করাটাই উত্তম। এছাড়াও দিনের বেলাতেও আপনি জার্নি করতে পারেন।

কুয়ালালামপুর এর সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড TBS থেকে মালাক্কা সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে যেতে হবে। মালাকার সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে আপনি ভাসমান এই মসজিদটি দেখতে ঠিক কলালামপুর এর মত রাইড বুকিং অ্যাপস ব্যবহার করে মালাক্কা ট্রেইটস মসজিদ বা সালাত মসজিদে যেতে পারবেন। সম্ভবত ৮ থেকে ১০ রিঙ্গিত এর কম বেশি বা পাশাপাশি একটা অ্যামাউন্ট লাগতে পারে।

মালাক্কা শহর যেহেতু একটি হিস্টোরিক্যাল প্লেস আপনি এখানে আসলে শুধুমাত্র মালাক্কা ট্রেইটস মসজিদ নয়। একই খরচে আরও কিছু দর্শনীয় স্থান আপনি ঘুরে দেখতে পারবেন।

তাই আমার পরামর্শ থাকবে মালাক্কা শহরে যদি কখনো আপনাদের আসা হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই হাতে একটু সময় নিয়ে আসবেন কেননা এই শহরের প্রতিটি কোনায় কোনায় রেগে আছে ঐতিহ্য ও ইতিহাসের ছোঁয়া। সবগুলো যদি আপনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চান আমার বিশ্বাস কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে যাদের হাতে সময় খুবই কম আমি বলব নূন্যতম দুই থেকে তিন দিন হাতে নিয়ে যাওয়াটা উত্তম। তাহলে অন্তত শহরে মূল দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন।

অভ্যন্তরীণ যাতায়াত, হোটেল ও খাবার এর ক্ষেত্রে কিছু টিপসঃ
মালাক্কা শহর একটি হিস্টোরিক্যাল ও ঐতিহ্যবাহী শহর। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক এখানে আসেন। তাই অন্যান্য শহরের তুলনায় এখানে সবকিছুর খরচ কিছুটা হলেও বেশি। তবে এখানে আপনি একটু চেষ্টা করলে আপনার আয়তের ভিতরে সবকিছু খুজে পাবেন।

এই শহরে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির খাদ্যাভ্যাস পরিচালিত রয়েছে। পুরো শহরটা একটি মিক্সড জাতী দারা গঠিত। আপনি যদি বিভিন্ন সংস্কৃতি ঐতিহ্যবাহী খাবার পরখ করতে চান তাহলে একটু ব্যয়বহুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে যারা স্বল্প বাজেটে ঘুরে আসতে চান, তাদের ক্ষেত্রে বলবো  আশেপাশের খুঁজলেই আপনি পেয়ে যেতে পারেন স্বল্পমূল্যের আপনার বাজেটের ভেতরে মানসম্মত খাবার।

মালাক্কার সেন্ট্রাল শহরে হোটেল ভাড়া একটু বেশি হলেও শহর থেকে কিছুটা দূরে গেলেই পাওয়া যায় একদম সম্পূর্ণ অর্ধেক মূল্যের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা। সাধারণত এটি নির্ভর করে একান্তই আপনার বাজেটের উপর।

যাতায়াতের ক্ষেত্রে আপনাকে শুধুমাত্র কুয়ালালামপুর সেন্ট্রাল থেকে মালাক্কা শহরে পৌঁছাতেই যা খরচ হবে। মালাক্কা শহরের ট্যুরিস্ট স্পটগুলো একটা থেকে আরেকটি বেশি দূরে না। কোনটা এক থেকে দেড় মিনিট অথবা কোনোটা পায়ে হাঁটার পথ মাত্র। তবে মালাক্কা শহরে যাওয়ার আগে, যদি আপনি আপনার পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে পারেন। তাহলে আপনার ভ্রমণ সহজ হবে। আপনি ইচ্ছা করলে আমার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা ফলো করতে পারেন।

মালাক্কা শহরে আপনার ভ্রমণ সহজতর করতে এই রুট লাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণঃ
 Note: Ai generated pic

এটি একটি প্রাথমিক ধারণার ছবি মাত্র বাস্তব অর্থে এটি কোন ম্যাপ না। নিচে নামের তালিকা অনুযায়ী আপনারা যদি ভ্রমণ করেন তাহলে আশা করা যায় আপনাদের ভ্রমণ সহজতর হবে।

1. Dutch Square (Red Square)👇
2. Christ Church Melaka👇
3. Stadthuys👇
4. St. Paul's Church👇
5.  A Famosa (Porta de Santiago)👇
6. Malacca Sultanate Palace Museum👇
7. Menara Taming Sari👇
8. Maritime Museum (Flor de la Mar)👇
9. Melaka River Walk👇
10. Melaka River Cruise👇
11. Masjid Kampung Hulu👇
12. Cheng Hoon Teng Temple👇
13. Kampung Kling Mosque👇
14. Sri Poyatha Moorthi Temple👇
15.  Baba & Nyonya Heritage Museum👇
16. Jalan Tun Tan Cheng Lock👇
 (Heeren Street)
17. Jonker Street Night Market👇 
(Jalan Hang Jebat)

১ থেকে ১৮ পর্যন্ত যে নামগুলা আপনি এই মুহূর্তে দেখলেন সবগুলো আপনি ইচ্ছে করলেই পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করতে পারেন তবে আপনি এখানে ট্যাক্সি অথবা থ্রি হুইলার পাবেন।

এছাড়াও ১৮ থেকে ২৪ পর্যন্ত যে স্থাপত্য নাম গুলো নিচে দেওয়া আছে এগুলো মালাকার জিরো পয়েন্ট থেকে একটু দূরত্বে তাই আপনাকে এগুলো স্থাপত্য পরিদর্শন করতে হলে ট্যাক্সি বা বুকিং রাইড ব্যবহার করতে হবে।

18. St. Francis Institution👇
19. Malacca High School👇
20. Bukit Cina👇
21. The Shore Sky Tower👇
22. Encore Melaka👇
23. Masjid Tranquerah 👇
(Masjid Tengkera)
24. Melaka Straits Mosque 
(Masjid Selat Melaka)



Post a Comment

0 Comments