Top For You

জীবন ডাইরীর এক অসমাপ্ত গল্প পার্টঃ ০২

জীবন ডাইরীর এক অসমাপ্ত গল্প পার্টঃ ০২
Note: Image created by AI

এক পর্যায়ে বাবা পা ধরে টানা বন্ধ করে, ছেড়ে দিয়ে দরজায় এসে দরজা খুলে বাহিরে গেলেন। আমিও বাবার পিছনে বাহিরে আসি। তার পর কি হয়েছে আমার সঠিক মনে নেই।

এখন এসে বুঝতে পারি, বাবা আসলে সেদিন মারার উদ্দেশ্য করে এটি করেননি। এটি ছিল শাসনের একটা পার্ট। কারন বাবার অবসর সময়ে সবচেয়ে পছন্দের জিনিস হল রেডিও। আর সেই রেডিও যদি ঠিক তার প্রয়োজনের সময় না পায়। তবে রেগে যাওয়া স্বাভাবিক। 
আর আমরা যে অপরাধ করেছি তার জন্যেও কিছুটা শাসন প্রয়োজন ছিল। তাই তিনি এমন করেছেন। বাবা সত্যিই যদি মারতে চাইতেন কেউ রক্ষা করতে পারতো না এক আল্লাহ ছাড়া,  কারন আমি আমার বাবাকে ভাল করেই চিনি।
বাবা প্রচন্ড রাগী কিন্ত বুকের ভিতরে ভালবাসার কমতি ছিল না।

আমার বাবাটা না সবার বাবার থেকে আলাদা। অনেকেই বলতে পারেন সবার বাবা সবার কাছে আলাদা। আমি কথার কথা বলছি না। সত্যিই বলছি আমার বাবা সবার থেকে আলাদা।

কেন আলাদা একটু পরেই বুঝতে পারবেন।  আমাদের সব ভাইবোনের প্রতি বাবার ভালবাসা ছিল সীমাহীন, হ্যাঁ সবার বাবার মতই। কিন্ত আমার বাবা অন্য সব বাবার মত প্রকাশ করতে পারতেন না বা পারেন না। আর এই কারনেই সবার বাবা থেকে আমার বাবা একটু আলাদা।

আমার জ্ঞ্যান হবার পর থেকে দেখছি, বাবা তার কোন সন্তান কে বুকে পিঠে কোলে তুলে আদর করছেন। কারন বাবা ঐ ভাবে বুক উজার করে প্রকাশি করতে পারতেন না। এতে আমাদের কারু কষ্ট নেই, কারন আমরা বুঝতাম বাবা আমাদের ভাইবোনের জন্য কি করছেন। তার ভিতরে আমাদের জন্য কত ভালবাসা আছে। কিন্ত আমার কষ্ট হতো বাবার ভালবাসা বাবা প্রকাশি করতে পারছেন না। এটা কত বড় কষ্টের বিষয়_ ঐ জায়গাতে না অবস্থান করলে বুঝানো বা বুঝতে পারা অসম্ভব। 

যখন আমার ছোট বোনের জন্ম হয় তখন পুরা পরিবার ছিল গোছানো। আমরা ভাই বোন পড়াশোনা করতাম বাবারও বেতন একটু বেড়েছিল। পরিবারেও গরু হাস মুরগি ছিল, অল্প কিছু জমিও চাষ করা হত। গ্রামের ভিতরে সাচ্ছন্দ পরিবার হিসেবে পরিচিতি মিলে আমাদের। বাবাও তখন মোটা মোটি সময় দিতেন। তা গৃহস্থলি কাজের মাঝেও এবং আমাদের পড়াশুনায়।
তখন আমার ছোট বোন সবার সান্নিধ্য পায়। বাবার সাথেও তার ভাল সখ্যতা ছিল।
তপ্ত দুপুরে বাবা মা যখন আমাদের ঘুমাইতে বলতেন, তখন দেখেছি ছোটবোন বাবার বুকের শুয়ে ঘুমাতো। এভাবেই চলতে থাকে আমাদের আনন্দের মুহুর্ত গুলো।

আমি ছোট থেকেই একটু বাউন্ডুলে স্বভাবের ছিলাম। দুপুরে যখন ঘুমাতে বলতো, আমি অনেকটা বিরক্ত হতাম। বাহিরে খেলাধুলার নেশা ছিল আমার। মাঝে মাঝে বাবা না থাকলে মা যখন ঘুমাতে বলতো অনেকটা রাগ দেখিয়ে কান্না করতে করতে ঘুমাতাম। তবে কথা না শুনার কোন উপায় ছিল না। তখন এই সময় গুলো সে ভাবে উপভোগ করতে না পারলেও এখন খুব বেশি মিস করি। মাঝে মাঝে নিজের প্রতি নিজেই প্রশ্ন করি সেই দিন গুলি গেল কৈ। মনে হয় একবার যদি ফিরে পেতাম সে ছোট্ট বেলা কত না মজা করতে পারতাম। 

কত না স্মৃতি মনে পড়ে। কিছু স্মৃতি মনে করলে খুব আনন্দ হয়, কিছু স্মৃতি মনে করলে অনেক কষ্ট মনে হয় আবার কিছু স্মৃতির মনে পরলে নিজের কাছে নিজেরি লজ্জা পেতে হয়।

আমি ও আমার ভাই পাশাপাশি বয়সের ছিলাম।  তাই আমি চেষ্টা করতাম তার সাথে খেলতে কিন্ত সে আমাকে তার সাথে নিতো না। বাড়িতে খেলাধুলা করলে নিতো। তবে বাহিরে নিতেই চাইতো না। তার জন্যেও তাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে, মায়ের রাগ দেখতে হয়েছে। মাঝে মাঝে তো মারও খেতে হয়েছে। বাহিরে তার আলাদা বন্ধু সার্কেল ছিল। সে চাইতো তার বন্ধু সার্কেলে সে একাই চলবে, আমি ছোট সেখানে বেমানান তাই আমাকে নিতে রাজি হত না। আর একটা কারন ছিল তারা বন্ধুরা মিলে যত আকাম করতো বাড়ি এসে আমি সব মাকে বলে দিতাম।  এটা ছিল অন্যতম বড় কারন।
একটা ঘটনার কথা বলি, আমি ছোট বলতে সব বুঝি কিন্ত সত্য মিথ্যা বলা_ কেন বলতে হবে? তখন আমার মাথাতে আসেই নি। একদিন বড় ভাই ও তার বন্ধুদের সাথে বাহিরে যায়। সঠিক মনে নেই কি ফল পারতে গিয়েছিলাম।  যতটুকু মনে আছে তত টুকুই বলছি। সম্বত আম পারতে গিয়েছিলাম। আম চুরি করে পেরে এনে ভাগের পালা। সবাই কে সমান ভাগ দেওয়া হল। পরে আমাকে আরও কিছু বেশি আম দেওয়া হল ঘুষ হিসেবে যেন আমি বাড়ি এসে না বলি। যথারীতি মেনে নিলাম। বাসায় এসে মার কাছে বলে দিলাম ভাই ও তার বন্ধুরা মিলে আম চুরি করে পেরেছে। মা ওমনি শুরু করলো তারা। বড় ভাইতো আমার বলা অর্ধেক শেষ না হতেই ভোঁ দৌর। মা মেয়ে মানুষ তাকে কি আর ধরতে পারে। আমাকে কিছু না বললেও আমিও ভয়ে দৌর। আমি জানতাম না যা বলছি তার অংশীদার আমিও আছি।
দুঃখের বিষয় ভাইয়ের পরবর্তী মিশনে আর শামিল হতে পারি নি। তারা আমাকে জানতেই দেয়নি তারা কোথায় কি করতে যাচ্ছে। 
মায়ের বয়স হয়েছে আগের মত বকে না। শাসন করতে চায় না। কারন তার ছেলেরা বড় হয়েছে বাবা হয়েছে। মা এখন চায় একটু সময়। 
আমি এখন এই স্মৃতি গুলো ভীষন রকম মিস করি। মনে হয় কতই না সুন্দর ছিল দিন গুলো।

আমরা হচ্ছি আলীফ লাইলার যুগের ছেলে জ্বিনের মত না হলে কি হয়।
ছোট হলেও এই বয়সে জ্বিনের মত অনেক কাজ করেছি। কখনও দুষ্ট জ্বিন আবার কখনও ভাল জ্বিনের মত। কথা গুলো জীবনের গল্পতে লিখতে গিয়ে অনেক কিছুই মনে পরছে। অনেক কথাই শেয়ার করার মত না তবে হ্যাঁ কথা দিচ্ছি কিছুই লুকাবো না। সব লিখবো আমার জীবনের গল্পে। হয়তো কিছু কথা আমার চরিত্রের সাথে যাবে না। তবে হ্যাঁ এটাই সত্য যা করেছি সব বলছি। তখন কার বিষয় নিয়ে কেউ মন্তব্য করবেন না প্লিজ।  অবুঝ বয়সে অনেক কিছুই হয়। এ বয়সে এসে আমি সত্যিই অনুতপ্ত।  সাজাও খাটতেছি। আর কি? 
মানুষ পরিবর্তনশীল তাই আমি পরিবর্তন হতে চেষ্টা করছি কতটা পেরেছি জানি না। তবে ভাল একজন মানুষ হিসেবে ভাল সন্তান, ভাল ভাই, ভাল স্বামী হতে চেষ্টা করছি। অনেক দুর এসেছি।  ইনশা-আল্লাহ। 

আলিফ লাইলার কথা বলে একটা কথা মনে পরে গেল। কি দিন গুলো ছিল। পুরা গ্রাম সহ টিভি ছিল দুইটি। হাজী বাড়ি একটি ও মাষ্টার বাড়ি একটি। তখন সপ্তাহে একবার শুক্রবার বিকেল বেলা বিটিভিতে ও পরে এসে যুক্ত হয় একুশে টিভি চ্যানেল ঘুরে ঘুরে টিভির মালিক পরিবারের যে ছবি পছন্দ সেই ছবিই দেখা হত। তবে খুব আগ্রহ থাকতো শুক্রবার।  এক দিকে ছুটি অন্যদিকে ছবি দেখার দিন। 
তবে প্রতি শুক্রবার এ দুটি বাড়ির দরজায় প্রচুর পরিমাণে মানুষের ভিড় হতো সেখানে ছোট বাচ্চাদেরও অনেক ভিড় হত। সম্মানের খাতিরে বড়দের প্রবেশ অধিকার থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই ছোটদের প্রবেশের কোন অনুমতি ছিল না। যদি কখনো টিভির মালিক পরিবারের সদয় হত তাহলে একমাত্র দেখার সুযোগ পেত ছোট ছেলেমেয়েরা। অনেক সময় দেখা গেছে একটা পরিবারে ছোট বাচ্চাদের ঢুকতে না দিয়ে দরোজায় খিল লাগিয়ে দিত তখন ছোটরা দৌড়াদৌড়ি করে অন্য আরেকটি টিভি পরিবারের বাসায় গিয়ে ধরনা দিত। অনেক ক্ষেত্রেই দেখার সুযোগ মিলতো আবার অনেক ক্ষেত্রেই নিরাশ হয়েই ছোটরা বাড়ি ফিরে আসতো। এরই মাঝেই আরো দুই একজনের বাসাতে টিভি চলে আসে। কিন্তু ছোটদের যে ভোগান্তি তা থেকে যায়। অথচ কিছু বুঝুক আর না বুঝুক টিভি দেখার বিষয়টা কিন্তু ছোটদের ক্ষেত্রেই বেশি ছিল। সে সময়টাই আমি ও ছোটদের দলে ছিলাম, আমি সেসময়ের ছোটদের টিভি দেখতে না পারার ব্যাথাটা বুঝতাম। যদিও আমাকে লজ্জা করত মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে ধারণা দেওয়া। কিন্তু আমিও তো ছোট কতক্ষণ নিজেকে মানানো যায় অনেক সময় অন্যদের সাথে আমিও যাইতাম। যাইহোক সে সময় টিভি মালিকদের পরিবারেরও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে মাটি দিয়ে সেখানে অনেক জনের আনাগোনা এতে করে অনেক ময়লা হয় এবং ধুলাবালি হয় এটা পরিবারের জন্য একটা পেরেশানি। এছাড়াও অনেক ছোট ছেলে মেয়ে এক জায়গায় বসে টিভি দেখতে গেলে অনেক চিল্লাপাল্লা হতো এই কারণেই মূলত ছোটদের সিনেমা দেখা বা টিভি দেখার কোন প্রবেশ অধিকার ছিল না। আমি এই জন্য অধিকার বলছি সে সময়ে অনেক পরিবারের জন্যই টিভি কেনার সমর্থ্য ছিল না, কিন্তু শখ তো সবার ছিল। যাদের টিভি কেনার সমর্থ্য ছিল না। আমি মনে করি এটা তাদের কাছে অধিকার। 
তো এখন আসে মূল কথায় তখন দিনের বেলায় সিনেমা হলেও রাতের বেলায় হত আলিফ লায়লা। আমরা দুই ভাই যখন পড়তে বসতাম তখন মনের ভেতরে এলার্ম সেট করা থাকতো ঠিক কোন টাইমে আলিফ লায়লা শুরু হয়। পড়তে বসা অবস্থায় খুব বেশি সময় আগেও যাওয়ার অনুমতি ছিল না আমাদের পরিবার থেকে। বড় ভাই যদি মাকে খুব বলে পেয়ে রাজি করে রাখত তাহলে ঠিক শুরু হওয়ার ২-১ মিনিট আগে আলিফ লায়লা দেখতে যাওয়ার অনুমতি ছিল। কিন্তু আমাদের বাড়ি থেকে টিভি পরিবার বা টিভি যাদের বাড়িতে আছে তাদের বাড়িতে যাইতে গেলে খুব জোরে দৌড়ে গেলেও দুই থেকে তিন মিনিট সময় লাগতো। 
কোন কোন সপ্তাহে দেখা গেছে বড় ভাই বইটা বন্ধ করেই একবারে ভোঁ দৌর আমি তখন বুঝতে পারতাম আমিও বই বন্ধ করে তার পিছে পিছে ধরে যেতাম যেহেতু আমি ছোট তাই তার সাথে ধরে যেতে পারতাম না অনেক পিছিয়ে পড়তাম। আমার মনে আছে এমনও কোন সপ্তাহ আছে যে, ছোটদের ঢুকতে দেবে না বলে সে আমাকে নিতে চাইতো না কারণ আমার জন্য সেও ঢুকতে পারবে না হয়তো। আমিও নাচের বান্দা যখন সে দৌড় দিত আমিও পিছে পিছে দৌড় দিতাম যখন আমি দৌড়ে পারতাম না তখন জোরে কান্নাকাটি করতাম।
আমার একটা সমস্যা ছিল আমি ছোটবেলায় রাতকানা রোগে ভুগতাম। রাতের আলো না থাকলে আমি কিছুই দেখতে পাইতাম না সম্পূর্ণ আন্দাজ করে পা ফেলে চলতে হতো। তখন এটা আমার জানা ছিল না আমি মনে করতাম সবাই আমার মতই রাতে কিছুই দেখতে পারে না। কিন্তু আসলে কিন্তু তা না মূলত যারা সুস্থ ব্যক্তি তারা যত অন্ধকারই হোক না কেন রাতের একটি নির্দিষ্ট আলো থাকে যে আলোতে মানুষ চলাচল করতে পারে। কিন্তু আমার বেলাটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। আমি রাতে চোখে কিছুই দেখতে পারতাম না।
আমার মনে আছে আমার বড় ভাইয়ের পিছনে ছুটতে গিয়ে আমি পথ ভুল করে ড্রেনের ভিতরে পড়ে যায় আমার পুরো শরীর নষ্ট পানি ও কাদা দিয়ে মেখে যায়। সেদিন আর আমার টিভি দেখা হয় না। আমি বাড়ি এসে কান্নাকাটি শুরু করি। এইজন্য বড় ভাইকে বাড়ি ফেরার পর অনেক বকা শুনতে হয়েছিল।
এর কিছুদিন পর জানতে পারলাম রবিবারে খুব ভালো একটি সিরিজ টিপু সুলতান এরপরে আকবর দ্যা গ্রেট পরবর্তীতে রবিনহুড এগুলো হতো সে সময়। এই সিরিজ গুলো রাতের দশটা বা সাড়ে নয়টার দিকে হওয়ার কারণে রাত গভীর হয়ে যেত। যেখানে দিনের বেলায় ছোট ছেলেমেয়েদের অ্যালাও করা হয় না। সেখানে রাতের বেলায় তো কোন প্রশ্নই আসে না। ছোট মানুষ তো তবুও টিভি দেখার খুব নেশা ছিল। হয়তোবা বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখার জন্য যাইতাম কোনদিন সৌভাগ্য হতো দেখার। আবার হয়তো কোনদিন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থেকেই সিরিজ শেষ হওয়ার শব্দ পেলে বাড়ি ফিরে আসতাম দেখা হতো না।
প্রথমেই বলেছি যেহেতু আমরা সচ্ছন্দ পরিবারের সন্তান।  গ্রামের সবার কাছে আমাদের পরিবারের একটা মান ছিল। আমাদের দুই ভাইকে আলাদাভাবে সমীহ করত। কিন্তু তারপরও তো ছোট অনেক সময় ছোটদের ভিড়ে এই সময়টুকু কাজ করত না। 

আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা বর্ণনা করি। আমি মনে করেছিলাম এ বিষয়টা শুধু আমি মনে রেখেছি। কিন্তু যখন আমি যৌবনে পা দেই তখন এই কথাটা জানতে পারি যে তিনিও এই কথাটা মনে রেখেছেন।
ঘটনাটির দিন কি ছিল আমার মনে নাই তবে যতদূর সম্ভব শুক্রবার অথবা কোন একদিন যেদিন টিভিতে মুভি বা সিনেমা হয়। সেদিন আমার বড় ভাই ছিল না আমি ছোটদের সাথে টিভি দেখতে যাই হাজী বাড়িতে।

হাজী বাড়িতেও ছোট ছেলে মেয়ে ছিল সেদিন টিভিতে কি যেন হচ্ছিল আমার সঠিক মনে নাই। অনেক ছোট ছেলে মেয়েদের সাথে আমিও টিভি দেখতে ঢুকি। হাজী বাড়িটা ছিল মাটিতে তৈরি দোতলা। সিঁড়ি দিয়ে উঠে প্রথম যে ঘর সে ঘরেই টিভি থাকতো। আমরা সবাই সেখানে গিয়ে যার যার মত করে খুব ভদ্র ছেলের মত অনেকটা হাতের সাথে হাত মিলিয়ে আমরা বাংলাতে যেটাকে বলি নূরী সুরি হয়ে আস্তে করে কেউ বসলো দরজার পাল্লার সাথে কেউ বসল মেঝের মাঝখানে কেউ বসল এমন জায়গায়, যেন টিভির মালিকদের যাতায়াতের কোন সমস্যা না হয়।

কিন্তু সেদিন বিধি বাম। টিভিতে চালিয়েছিল হাজী বাড়ির ছোট ছেলেমেয়েরা। হাজী বাড়ির প্রথম ছেলের বউ অর্থাৎ আমরা চাকরি করে ডাকতাম সেই হিসেবে বড় চাচি, তার ঘরেই টিভি ছিল। তিনি দোতলার নিচ থেকে যখন দেখলেন তার ঘরের ভিতরে অনেকগুলো ছেলে-মেয়ে তখন সজোরে তার ছেলে মেয়েকে বকাঝকা করলেন। টিভি বন্ধ হয়ে গেল। যার যার মত করে সবাই সিঁড়ি দিয়ে নাম ছিল। আমি হয়তোবা সবার শেষ দিক থেকে দ্বিতীয় অথবা শেষে ছিলাম। আমি দেখছিলাম সিঁড়ি দিয়ে এক একজন করে নিচে নামছে আর বড় চাচী হাতে একটি বাঁশের সরি বা কঞ্চি নিয়ে কাউকে একটা বাড়ি দিচ্ছেন কাউকে দুইটা বাড়ি দিচ্ছেন। এটা দেখার পর আমি নিজেকে খুব বড় অপরাধী মনে করলাম। সবার মত আমিও যখন সিঁড়ির শেষ স্টেপে পা রাখবো ঠিক তখনই চাচী আমার পিছনে একটা কি দুইটা বাড়ি দেন। আমি মূলত এরকম অপমানিত কোথাও কখনো হইনি। আমি ছোট ছিলাম তবে ছোট থেকে আমার ইগোটা অন্য লেভেলের ছিল আমার আচরণ ছিল অনেকটা বড় মানুষদের মত। সেদিন চাচী যে কারণেই হোক না কেন? হয়তো বিরক্ত হয়ে অথবা অন্য কোন কারণে রেগে গিয়ে এ কাজ করেছেন। তার কঞ্চি দিয়ে বাড়ি দেওয়াটা খুব জোরে ছিল না কারণ আমরাও অনেক ছোট ছিলাম তিনি জানতেন জোরে বাড়ি দিলে আমরা ব্যথা পাব। তবে বিষয়টা আমাকে গভীরভাবে আঘাত করে।
সেদিনের পর থেকে আমার আর সে বাড়িতে যাওয়া হয়নি টিভি দেখাতেও অনেকটা কমে গিয়েছিলাম যদি কখনো মন চাইতো মাস্টার বাড়িতে যাইতাম সুযোগ না পেলে যাইতাম না। তবে সেদিনের পর থেকে আর কখনো হাজী বাড়িতে টিভি দেখার জন্য আর যাওয়া হয়নি।

এ বিষয় নিয়ে দীর্ঘ ২০/২২ বছর পর হঠাৎ করেই চাচী আমাকে এই কথা বলে। আমি হত বিম্ব হয়ে গেলাম। মানুষের জীবনে তো কত ঘটনায় থেকে থাকে। তিনি কেন সেদিন এই কথাটা মনে রেখেছেন। কেনই বা প্যাসিফিক ভাবে আমাকে তার স্মরণ আছে। কি কথা হয়েছিল তা বলব যে বয়সে আমার সাথে তার কথা হয়েছে আমার জীবনের ডায়েরির অসমাপ্ত গল্পের ঠিক ওই সময়ে এই কথাটা আলোচনা করব।

তবে সত্যি বলতে আমার মনের ভিতরে অপমান বোধ কাজ করলেও কোন অভিযোগ বা অভিমান ছিল না। কারণ সে সময়টা এই ঝামেলা নেওয়াটাও সবার পক্ষে সম্ভব ছিল না কিন্তু যাদের বাসায় টিভি ছিল তারা অনায়াসে গ্রহণ করতেন। তবে মানুষের মন সব সময় পজেটিভ ভাবে কাজ করবে এমনটা না। এই বিষয়গুলো আমি খুব ছোট থেকেই অনুধাবন করতে পারি আর এই কারণেই সেদিনও কোন অভিমান অভিযোগ ছিল না আজও কোন অভিমান অভিযোগ নেই।

 আমি যেহেতু এখন স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। স্কুলে ক্লাস চলছে পড়াশুনা চলছে বন্ধু-বান্ধবের আড্ডা আছে। আর যেহেতু ছোটবেলা থেকে আমার ভেতরে আলাদা একটা ম্যাচুরিটি কাজ করত তাই অল্প বয়সেই যে কারো প্রেমে পড়বো না তা কি হয়। সেই সময়টাকে আমি প্রেম বলে মনে করেছিলাম কিন্তু তা ছিল মাত্র অ্যাট্রাকশন। আমি সবে ক্লাস ওয়ান থেকে টুতে পদার্পণ করি। আমার পড়াশোনাটা শুরু থেকেই ভালো ছিল আমি আমার প্রাইমারি জীবনে সবসময় প্রথম ব্রেঞ্চে বসতাম। ছেলেমেয়েদের আলাদা বসা জায়গা থাকলেও ব্রেঞ্চের শাড়িটা ছিল পাশাপাশি। আমি প্রতিদিন প্রথম বেঞ্চের যে পাশে বসতাম। মেয়েদের শাড়িতে ঠিক আমার পাশেই প্রথম বেঞ্চে একজন মেয়ে বসতো। মেয়েটির গায়ের রং ছিল কালো তবে মুখের গরণ ছিল অসম্ভব সুন্দর। অনেকেই তাকে পছন্দ করত না, তার গায়ের রং কালো বলে। কিন্তু আমি তাকে ভীষণ রকম পছন্দ করতাম। যখন পড়াশোনার ক্যাটাগরি তে ভালো-মন্দ জানার বা বোঝার মত সময় হলো ঠিক তখনই........

 Click here 👇


Post a Comment

0 Comments