Latest post slider

লেটেস্ট পোস্ট লোড হচ্ছে...

বাংলাদেশে ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ তারিখের নির্বাচনে শেখ হাসিনা জয়ী, এটাও কি সম্ভব?



অল্প কিছু কথা বলি, বিস্তারিত বলতে গেলে অনেক সময়ের ব্যাপার। যে সময়টা বর্তমানে আমার হাতে নেই। আপনাদেরও পড়ার ধৈর্য থাকবে না। 

ধরে নিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ডঃ মোঃ ইউনুস এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান যেহেতু ডঃ শফিকুর রহমান একজন ধার্মিক মানুষ ধরে নেন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানানো হলো। নির্বাচনে যে দল অংশগ্রহণ করছেন তিন দলের প্রধান এ তিনটা সেক্টরের উচ্চপর্যায়ে আছেন। নির্বাচনের মাঠে সব দলের পাশাপাশি বাংলাদেশের এক সময়কার ফ্যাসিস্ট হিসেবে পরিচিত তার দল আওয়ামী লীগও এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। 

এখন বলেন নির্বাচনে কে জয়লাভ করতে পারে? 

প্রথমে আমার কথা শুনলে অনেকে আমাকে গালি দেবেন, অনেকে পাগল বলে সম্বোধন করবেন, যদিও এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত। তারপরও শুনে রাখুন আওয়ামী লীগ দলটি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করবে। কি অবাস্তব মনে হচ্ছে নাকি, যারা আসলে কৌতূহলী তারা প্রশ্ন করতে পারেন, 
কিভাবে সম্ভব?

হ্যাঁ সম্ভব, যদি আপনার একটু ধারনা থাকে ডিপস্টেট বা আমলাতন্ত্র বিষয়ে তাহলে আপনি আমার কথা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর একটা দল ক্ষমতায় ছিল তারা কিভাবে দেশ চালিয়েছে? কি চেন অফ কমান্ড তৈরি করেছে সবার জানা। যদি জানা না থাকে তাহলে আমাকে বিস্তারিত বর্ণনা করতে হতো। যেহেতু সবার জানা আমি স্বল্পপরিসরে আলোচনা করছি। প্রথমে আপনাকে বুঝতে হবে একটি রাষ্ট্রের ইন্দ্রিয় গুলো কি কি? কিভাবে কাজ করে। 

ধরুন একটি রোবট যার মালিকানা রয়েছে ডঃ মোঃ ইউনুস এবং মস্তিষ্কে রয়েছে তারেক রহমান সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভয়েস বা চোখের দেখা হিসেবে কাজ করছে ডক্টর শফিকুর রহমান।
কিন্তু কোন কারণবশত বা সফটওয়্যার এর ত্রুটির কারণে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনার হাতে অর্থাৎ রিমোট কন্ট্রোলটি হাসিনার হাতে।

রোবটের একটা বডি যেরকম হাত থাকে পা থাকে চোখ থাকে মাথা থাকে ব্রেন থাকে একটা রাষ্ট্রের এরকম সব কিছু আছে। আপনি ইচ্ছে করলেই বাংলাদেশের গভার্নমেন্টের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় কে রোবট এর বিভিন্ন অঙ্গের সাথে তুলনা করতে পারেন। 

একটা রোবটের মালিকানা আপনার হতে পারে। আপনি রোবটের মস্তিষ্ক হতে পারেন। আপনি রোবটের ভয়েস হতে পারেন। কিন্তু রোবট যদি কন্ট্রোল অন্যজনের হাতে থাকে তাহলে আপনার রোবটের মালিকানা হয়ে কোন কিছুই করার ক্ষমতা রাখেন না। বাংলাদেশ নামের স্টেট-টা এ অবস্থায় রয়েছে।

আপনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপতি ইউনুস করা নির্দেশ দিলেন যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপ্রাণ চেষ্টা করছেন একটি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন করে যেই ক্ষমতায় আসুক তাকে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

এদিকে নির্বাচন প্রধান ডক্টর শফিকুর রহমান তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ একটি সুষ্ঠ নির্বাচন করে দেশের ক্ষমতাকে সুষ্ঠু হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের কল্যাণ সাধিত করার।

সব ঠিক আছে কিন্তু ফিল্ড পর্যায়ে বা মাঠে এই আইন অর্ডার বা চিন্তাধারা বা সৎ চিন্তার চেয়ে বাস্তবায়ন সেগুলো করবে কে? একটা রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্র সরকারি কর্মচারীরা তাই তো। কিন্তু আদৌ কি এগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ এই তিনজনের আছে? কিছুক্ষণ আগে যে শীর্ষ পর্যায়ের তিনজন ব্যক্তির কথা বললাম তারা যথাযথ সময়ের জন্য যথেষ্ট যথাযথ কাজের জন্য biforce order করছেন। 

কিন্তু রুট লেভেল বা ফিল পর্যায়ে যারা কাজ করছে তাদের রিমোট আওয়ামী লীগ বা তথা শেখ হাসিনার হাতে। 

একটা কেন্দ্র দিয়ে আমি আপনাকে বুঝাই আপনার জন্য সুবিধা হবে।

ধরে নেন অচিনপুর এমপিও আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফিল্ডে সেনাবাহিনী সরাসরি উপস্থিত পুলিশও তার যথাযথ কাজ করছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে। সবাই আসছে ভোট দিচ্ছে চলে যাচ্ছে। খুব শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হল কিন্তু যিনি সেই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণের দায়িত্বে আছেন বা প্রিজাইটিং অফিসার তিনি যদি ইচ্ছা করেন___

শেখ হাসিনা এর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ভোট যা পড়েছে তাই থাকলো।

ডক্টর শফিকুর রহমান এর নেতৃত্বে দাঁড়িপাল্লার ভোট প্রতিটি কেন্দ্র থেকে দুই থেকে তিনশ করে ভোট ব্যালট ছিড়ে ফেলা হলো। 

একই রকম ভাবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ধানের শীষের যত ভোট পেয়েছে প্রতিটি কেন্দ্র থেকে কিছু কিছু করে ব্যালট ভোট ছিঁড়ে ফেলা হলো।

একই রকম ভাবে এনসিপির ক্ষেত্রেও তাই হল। যদি একটি আসনে ৯০ টি ভোটকেন্দ্র থাকে। এমন করে যদি ছিঁড়ে ফেলা হয় পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী। প্রধান নির্বাচন কমিশনের ঘোষনার সময় সেই ভোট সংখ্যা আপনাদের কত দাঁড়াবে বলতে পারেন। 

এজেন্টদের স্বাক্ষর আছে শীটে লেখা আছে কিন্তু যে টুকু ছিড়ে ফেলা হয়েছে সে টুকু যদি রেজাল্ট সিটে মিল রেখে সংখ্যাটি পরিবর্তন করে, আপনি কি ইচ্ছা করলেই পরবর্তীতে তা প্রমাণ করতে পারবেন? 
রেজাল সিটে যে সংখ্যা পরিবর্তন হয়েছে, আপনি রেজাল্ট মেনে নিলেন না। উচ্চ আদালতে গেলেন ভোটগুলো পুনঃ গণনা করালেন কিন্তু দেখা গেল রেজাল্ট সিটে যে সংখ্যাটি আছে ব্যালট ভোট সেই পরিমাণে আছে। আপনার করনীয় কি? আপনি কোন যুক্তিতে কোন প্রমাণের বলে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। আপনাকে নিরুপায় হয়ে সেই ফলাফল মেনে নিতে বাধ্য।

 সুতরাং বোঝার চেষ্টা করুন, আমি শুধুমাত্র একটি আসনের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছি। ডিপস্টেট  আরো গভীরে কাজ করে। যেটা সাধারণত, সাধারণ মানুষের বোঝার কোন সক্ষমতা থাকে না। এ সক্ষমতার বাইরে গিয়ে গভীর থেকে এই কার্য সম্পাদন করা হয়। যেখানে আপনি ইচ্ছে করলেও কোন আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন না। কারণ সে পরিমাণে তথ্য আপনার হাতে থাকবে না। যদিও থাকে, আপনি যেখান থেকে এটার প্রতিকার চাইবেন, তিনিও এই ডিপস্টেট  এর অংশীদার। 

সুতরাং যা ঘোষণায় এসেছে তাই আপনাকে মেনে নিতে হবে।
"সুখরিয়া আদায় করুন" এর চেয়ে বেশি খারাপ কিছু হতে পারতো।
যদি ১১ দল সংসদে না যায়, তাদের ন্যায্য হিসাব চেয়ে বসে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিবে, পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ।
তাই উভয় পক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। 

আসুন মিলে মিশে বাংলাদেশটাকে গড়ি।


আশা করি বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। 
আমাদের সাম্প্রতিক ১২ তারিখের নির্বাচনে জয়ী দলকে শুভকামনা জানিয়ে এবং  বিরোধী দলীয় নির্বাচিত সবাইকে সুন্দর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার অংশীদার হিসেবে কল্পনা করে আজকের মত বিদায়।
(আল্লাহ হাফেজ)

Post a Comment

0 Comments