Top For You

হিবিস্কাস বা জবা উদ্ভিদ, জবা ফুলের গাছ।

অনেক উদ্ভিদ প্রেমীরা আছেন, যারা নিজের বাড়ির উঠোনে বা বাড়ির পাশে ছোট করে বাগান তৈরি করতে চান এবং অনেকে আছেন টবে ফুলের গাছ লাগাতে পছন্দ করেন। তাদের ভিতরে অনেক মানুষ জবা ফুল খুব পছন্দ করেন।

যারা জবা ফুল গাছ লাগাতে আগ্রহী তাদের ক্ষেত্রে কিছু তথ্য ও কিভাবে পরিচর্যা করা যায় এ বিষয়ে কিছু কথা।

হিবিস্কাস উদ্ভিদ মূলত ম্যালভেসি (Malvaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এটি সারা পৃথিবীতে প্রায় ২০০ টিরও বেশি প্রজাতি হয়ে থাকে।

জবা ফুলের গাছের পাতা অনেকটা পান পাতার মতো শোরু। যাকে আমরা বলি ডিম্বাকৃতি, পাতার কিনারাই মসৃণ হয়ে থাকে।

জবা ফুলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হল এর দীর্ঘ স্টেমেন টিউব (Stamen tube) বা পরাগ দ্বন্ড। এই পরাদন্ড জবাব ফুলের পাপড়ির মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে আসে।
হিবিস্কাস বা জবা ফুলের গাছ প্রধানত দুই ধরনের বা দুই ভাগে ভাগ করা যায়
একটি হচ্ছে ট্রপিক্যাল হিবিস্কাস(Tropical Hibiscus)
এবং হার্ডি হিবিস্কাস(Hardy Hibiscus)

ট্রপিকাল হিবিস্কাস মূলত উষ্ণ ও আদ্র জলবায়ুতে, যেমন বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় অর্থাৎ এশিয়ার অঞ্চলে খুব ভালো জন্মায়। এদের ফুলের রং খুব গারো ও উজ্জ্বল হয়। এশিয়া অঞ্চল ট্রপিক্যাল হিবিস্কাস এর জন্য তুলনামূলক উপযোগী অঞ্চল।

হার্ডি হিবিস্কাস তুলনামূলক ঠান্ডা জলবায়ু সহ্য করতে পারে এবং শীতকালে এদের গাছের ওপরে অংশ শুকিয়ে গেলেও বসন্তে আবার নতুন করে গজায়। এ প্রজাতির গাছও এশিয়াতে অনেক জায়গায় দেখা যায়

যারা জবাব ফুলের গাছ বা হিবিস্কাস নিজের বাড়ির উঠোন তবে রাখতে চান  অথবা বাগান করতে চান তাদের জন্য কিছু টিপসঃ

জবা ফুল প্রচুর রোদ পছন্দ করে দিনে অন্তত ছয় থেকে আট ঘন্টা সরাসরি সূর্যালোক না পেলে গেছে ফুল কম হয়।
তাই যারা টবে জবা ফুলের গাছ রোপন করতে চাচ্ছেন অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেখানে ফুলের টপ রাখবেন যেন পর্যাপ্ত সূর্যালোকের ব্যবস্থা থাকে।

যারা বাগান করতে চান সেক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন দোয়াশ মাটি জবা গাছের জন্য আদর্শ মাটির pH মাত্রা কিছুটা অশ্লীয় বা এসিডিক (acidic) হলে ফুল ভালো ফোটে।

ফুলের গাছ যদি টবে থাকে, এমনকি যেখানে ফুলের বাগান করছেন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন মাটি যেন শুকিয়ে না যায়। মাটি শুকিয়ে গেলে সেখানে পানি দিতে হবে। এমনকি গাছের গোড়ায় একদম কাদা করেও রাখা যাবে না। সে ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যদি টবে চাষ করেন সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা খুব ভালো হতে হবে।

আপনি যদি জবা ফুলের গাছের সমৃদ্ধি লক্ষ্য করতে চান সে ক্ষেত্রে অবশ্যই নাইট্রোজেন এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ সার অত্যন্ত কার্যকর।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি হচ্ছে হেবিসকাস বা জবা ফুলের ব্যবহার এবং গুরুত্ব যারা জানেন বা বোঝেন তারা ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।
এমনকি অনেক সংস্কৃতিতে বা অঞ্চলে জবা ফুলের চা(Hibiscus tea) খুবই জনপ্রিয়। এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

জবা ফুল মূলত নানাবিধ ব্যবহারের পাশাপাশি ধর্মীয় কাজেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ভারতীয় উপমহাদেশে জবাফুল বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে বিশেষ করে পূজায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

জবা ফুলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে প্রসারিত এটি প্রসাধনী শিল্পের একটি কাঁচামাল। জবা ফুলের নির্যাস চুলের যত্নে এবং ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে যেসব প্রসাধনের ব্যবহৃত করা হয় সেইসব প্রসাধনের অন্যতম কাঁচামাল।

হিবিস্কাস গার্ডেন বা জবা ফুলের বাগান তৈরি করা যেমন একটি শখের কাজ তেমনি এটি প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের এক দারুন মেলবন্ধন।

যারা ইচ্ছা পোষণ করেছেন জবা ফুলের বাগান করবেন পা হেবিস খাস গার্ডেন্সে আগ্রহী তারা আরো তথ্য জানতে চাইলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
আমার হোয়াটসঅ্যাপ আইকোনে ক্লিক করে আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। 
এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়তেও যোগাযোগ করতে পারেন।

Post a Comment

0 Comments